রাজশাহীতে চাঞ্চল্য: চিকিৎসকের বাড়িতে কেয়ারটেকার বেশে ড্রাগ ডিলার, ২ হাজারেরও বেশি ইয়াবাসহ গ্রেফতার!
আজিজুর ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার:
রাজশাহী মহানগরীতে চিকিৎসকের বাড়িতে কেয়ারটেকার হিসাবে ছদ্মবেশে থাকা এক ভয়ঙ্কর ড্রাগ ডিলারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চন্দ্রিমার একটি অভিজাত এলাকায় চালানো অভিযানে তার কাছ থেকে ২ হাজার ৫৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ মাদকের চালানের সন্ধান পেয়ে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম মোশারফ হোসেন (৪৫)। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের একজন স্বনামধন্য চিকিৎসকের চন্দ্রিমার বাড়িতে গত কয়েক বছর ধরে কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মোশারফ রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ভানুকর (মিরগঞ্জ) এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকার ৭নং রোডের ২৩৬ নং বাড়িতে মাদক কেনাবেচার একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য গোয়েন্দাদের কাছে ছিল।
শুক্রবার রাতে চন্দ্রিমা থানার একটি বিশেষ দল এবং তালাইমারী ফাঁড়ির সদস্যরা মিলে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন। সাড়ে ১০ টা থেকে শুরু হয়ে প্রায় সাড়ে ১১-৪৫ টা পর্যন্ত টানা এক ঢেড় ঘণ্টার অভিযানে বাড়ির ভেতর তল্লাশি চালিয়ে এই বিশাল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। মোশারফকে গ্রেফতারের পর বাড়ির পরিবেশ আপাতদৃষ্টিতে শান্ত মনে হলেও, ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণে মাদক পাওয়া যাবে তা পুলিশের ধারণার চেয়েও বেশি ছিল।
অভিযান পরিচালনাকারী তালাইমারী ফাঁড়ির আইসি মোঃ মাসুদ রানা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোশারফ স্বীকার করেছেন যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকের এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ যাচাই করে মাদকের মূল হোতা এবং তার অন্য সহযোগীদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।
পুলিশের তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, মোশারফ শুধুমাত্র খুচরা বিক্রেতা নন, তিনি মাদকের একটি শক্তিশালী পাইকারি নেটওয়ার্কও চালাতেন।
চিকিৎসকের বাড়ির আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকের এই অবৈধ কারবার চালিয়ে আসছিলেন।
চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনিরুল ইসলাম এই অভিযানের বিষয়ে বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনার পেছনের মাদক সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যদের খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আজ শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। এই অভিযানটি মাদকবিরোধী যুদ্ধকে আরও বেগবান করবে বলে পুলিশের দাবি।